জীবনযাপন

সাবধান! অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণে কী হয় জানেন কি?

ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস হল সূর্যের আলো। তাই ভিটামিন ডি কে, সাধারণত সানশাইন ভিটামিনও বলে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিনটি, খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সহায়তা করার পাশাপাশি, দাঁত এবং হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতেও ভিটামিন ডি অত্যন্ত সহায়ক। তবে আপনি কী জানেন, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি এর গ্রহণ, স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকারক?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, রক্তের সর্বোত্তম মাত্রা বজায় রাখতে দৈনিক ১০০০-৪০০০ আইইউ কিংবা ২৫-১০০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে, হতে পারে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া।

তাহলে দেখে নেওয়া যাক, মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন ডি এর কুফল সম্পর্কে কিছু তথ্য

> হাইপারক্যালসেমিয়া এটি মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণের, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। হাইপারক্যালসেমিয়ার ক্ষেত্রে, রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আমরা সকলেই জানি যে, ভিটামিন ডি মূলত খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সহায়তা করে। তাই শরীরে মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন ডি এর অর্থ হল, ক্যালসিয়ামের শোষণও বেশি হওয়া। এর ফলে খিদে কমে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ, ক্লান্তি এবং বমি বমি ভাবের মতো, বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

> অতিরিক্ত ভিটামিন ডি মূলত, কিডনি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি এর কারণে, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি, বারে বারে প্রস্রাব পাওয়া কিংবা কিডনীষ্টোনের মতন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যারা ইতিমধ্যেই কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

> শরীরে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পাকস্থলীতে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়ার মতো বিভিন্ন হজম সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এগুলি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের ভিটামিন গ্রহণ করার আগে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

> হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন ডি কিন্তু, হাড়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তাই, হাড়ের সর্বোত্তম স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসক নির্ধারিত মাত্রায়, ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন।

> বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন ডি এর কারণে খিদে কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়ার মতো বিভিন্ন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এগুলি মূলত হাইপারক্যালসেমিয়ার সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত।

> আপনি কী শরীরে কোন বল পান না? আপনার কী অত্যাধিক ক্লান্তির অনুভূতি হয়? তাহলে, এটি মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্ৰহনের কারণে হতে পারে। এটিও মূলত, হাইপারক্যালসেমিয়ার সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত।

> বার বার বিরক্ত হওয়া বা খিটখিটে মেজাজ, হাইপারক্যালসেমিয়ার অন্যতম সাধারণ লক্ষণ। যা মূলত ভিটামিন ডি এর আধিক্যজনিত কারণে হয়ে থাকে। তাছাড়া মাত্রা অতিরিক্ত ভিটামিন ডি, মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতেও সক্ষম। এর থেকে বিভ্রান্তি, সাইকোসিস কিংবা বিষন্নতার মতো বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এই ধরনের উপসর্গ গুলো লক্ষ্য করা মাত্রই, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Articles

Back to top button