ঘুম নিয়ে এই ৪টি প্রচলিত ধারণা আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে…..

ঘুম আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।ম সম্পর্কে ব্যাপকভাবে প্রচলিত কিছু ধারণা আমাদের স্বাস্থ্য এবং মেজাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি আমাদের আয়ু কমিয়ে ফেলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এখন আপনাদের মধ্যে কতজন এ ধরণের ধারণায় বিশ্বাস করার জন্য আফসোস করবেন?
১।বিছানা যাওয়ার আগে মদ পান করলে ঘুম ভালো হয়
শরীর মন শিথিল করার এই উপায়টি পুরোপুরি বানোয়াট। গবেষক দলটি বলছে, সেটা এক গ্লাস ওয়াইন হোক, ড্রামভর্তি হুইস্কি হোক বা এক বোতল বিয়ার। “এটি মূলত আপনার ঘুমের প্রাথমিক পর্যায়, অর্থাৎ যে সময়ে চোখের দ্রুত নড়াচড়া কমে আসতে থাকে সেই স্তরটিকে বাধা দেয়। ঘুমের এই পর্যায়টি স্মৃতিশক্তি ও শেখার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।”
২।বিছানায় শুয়ে টিভি দেখা আপনাকে শিথিল করতে সাহায্য করে
আপনি কি কখনও ভেবেছেন ” বিছানায় যাওয়ার আগে আমার একটু শিথিল হওয়া দরকার, আমি কি তাহলে কিছুক্ষণ টিভি দেখবো?” বিষয় হল, এই রাত করে টিভি দেখা আপনার ঘুমের জন্য খারাপ হতে পারে। ডাঃ রবিনস যুক্তি দেন: ” আমরা যদি টেলিভিশন দেখে থাকি, তাহলে প্রায়ই রাতের খবরগুলো দেখা হয়। এতে করে আপনি মানসিক চাপ সেইসঙ্গে অনিদ্রা রোগ বা ইনসোমনিয়ায় ভুগতে পারেন।
যে সময় আপনার শরীর-মন শিথিল রাখার কথা সেই সময়ে অর্থাৎ বিছানায় শুতে যাওয়া থাকার আগে আপনাকে অনিদ্রা বা চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
৩।ঘুমানোর অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও যদি ঘুম না আসে তাও বিছানায় পড়ে থাকুন
আপনি ঘুমানোর চেষ্টায় অনেক সময় নষ্ট করেছেন। এমনকি সারা নিউজিল্যান্ডের দুই কোটি ৮০ লাখ ভেড়ার সবকটি হয়তো আপনি গুনে শেষ করে ফেলেছেন। তাহলে আপনার পরবর্তীতে কি করা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর হল, ঘুমের জন্য এতো চেষ্টা বন্ধ রাখতে হবে। “আমরা অনিদ্রার সঙ্গে আমাদের বিছানার যাওয়ার বিষয়টিকে সংযুক্ত করলাম।” ডাঃ রবিনস বলেন।
“একজন সুস্থ মানুষের বিছানায় যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘুম চলে আসে। তবে ঘুম আসতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগলে, অবশ্যই বিছানা ছেড়ে দিতে হবে। এরপর পরিবেশ বদলে দিতে হবে। এমন কাজ করতে হবে যেখানে মস্তিষ্কের তেমন কিছু ভাবতে হবেনা। যেমন, মোজা ভাজ করা।”
৪.বারবার স্নুজ বোতামে চাপ দেয়া
অনেকেই তাদের ফোনে একাধিক সময়ে স্নুজ টাইমার সেট করাটাকেই স্বাভাবিক মনে করেন। এটা ভেবে যে বিছানায় অতিরিক্ত ছয় মিনিটেই বুঝি বিশাল কোন পার্থক্য হবে। কিন্তু গবেষক দল বলেছেন যে যখন অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে যায়, তখনই আমাদের উঠে যাওয়া উচিত।
ডাঃ রবিনস বলেছেন: “এতে আপনার মতো সবাই কিছুটা আধো ঘুম আধো জাগা অবস্থায় থাকলেও তারা স্নুজ করার প্রলোভনকে প্রতিরোধ করতে পারবে। “প্রথম অ্যালার্ম বাজার পর স্নুজ দিয়ে আপনার শরীর হয়তো আবার ঘুমিয়ে পড়বে।