আপনার কি হাঁটার সময় পিঠ ও কোমরে ব্যথা করে, তাহলে জেনেনিন

প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটার উপকারী দিক আছে অসংখ্য। ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, মন মানসিকতা ভালো রাখতেও এর জুড়ি নেই।

পাশাপাশি বিপাকক্রিয়া, সৃজনশীলতা, মনযোগ ইত্যাদিরও উন্নতি হয়। শরীরচর্চা হিসেবে নয়, শুধু যদি বেড়ানোর কথা ভেবেও বাড়ির আশপাশে ১৫ মিনিট হাঁটাও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

তবে হাঁটারও আছে নিজস্ব মন্দ দিক। যার কারণে কিছু মানুষের জন্য তা হতে পারে কষ্টকর। যেমন কারও ক্ষেত্রে হাঁটা থেকে দেখা দিতে পারে পিঠ ব্যথা। কেনো এমনটা হতে পারে সেটাই জানানো হল শরীরচর্চা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অবলম্বনে।

পেশির অবসাদ: স্থূলকায় ব্যক্তিদের হাঁটার কারণে পিঠ ও কোমরে ব্যথা দেখা দেওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এর কারণ হল মূলত চর্বির অসমতা। স্থূলকায় ব্যক্তির শরীরে মাঝখানে এবং নিম্নাংশে ওজন থাকে বেশি। আর হাঁটার সময় সেই সমস্ত ওজন বহন করতে হয় পিঠের নিচের অংশে। এই অতিরিক্ত চাপ পেশিকে ক্লান্ত করে, দেখা দেয় ব্যথা। লম্বা-সময় দায়িয়ে থাকলেও একই সমস্যা অনুভূত হয়।

লিগামেন্ট’য়ের সমস্যা: ‘লিগামেন্ট’ যদি ছিঁড়ে যায় কিংবা পেশি যদি অতিরিক্ত প্রসারিত হয় তবে ব্যথা হবে এটাই স্বাভাবিক। ওজন অতিরিক্ত হওয়ার কারণে একজন মানুষের নড়াচড়া অস্বাভাবিক হয়ে যায়। যে কারণে হাড়ের জোড়কে ধরে রাখা ‘লিগামেন্ট’গুলো ছিড়ে যায়। ছিঁড়তে পারে ‘টেনডন’ ও পেশিও। পড়ে যাওয়া থেকেও এমন ক্ষতি হয়। এথেকে হওয়া ব্যথার পাশাপাশি থাকতে পারে ফোলাভাব, রগে টান পড়া, নড়াচড়ায় সমস্যা হওয়া ইত্যাদি।

মাসল স্প্যাজম: পেশিতে টান পড়া বা ছিঁড়ে যাওয়া থেকে ‘মাসল স্প্যাজম’ কিছুটা ভিন্ন। আকস্মিক নড়াচড়া বা বেকায়দায় নড়াচড়া থেকে এটি দেখা দেয়, তা খুব একটা মারাত্মক নয়। আকস্মিক নড়াচড়ার কারণে মেরুদণ্ড এবং নিচের অংশের পেশিতে অতিরিক্ত টান পড়ে, ফলে ব্যথা হতে পারে। এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়না আর স্যাঁক দেওয়ার মাধ্যমে সারিয়ে তোলা সম্ভব।

হাঁটা বা বসার ধরনে সমস্যা: হাঁটা এবং বসা দুটোই দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজ। তবে তারও একটা সঠিক কায়দা আছে। অস্বাভাবিক কায়দায় অনেকক্ষণ হাঁটাহাটি করলে তা উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি বয়ে আনবে। সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটা, ভুল ভঙ্গী, দৈনন্দিন জীবনের শারীরিক ও মানসিক চাপ, শরীরের প্রধান পেশির ওপর অস্বাভাবিক ধকল, অনৈচ্ছিক শক্ত পেশি, উঁচু হিলের জুতা পরা, ভুলভাবে দীর্ঘসময় বসা ইত্যাদি সবই ডেকে আনতে পারে পিঠ ব্যথা।

লর্ডোসিস: মেরুদণ্ড অস্বাভাবিকভাবে ভেতরের দিকে বাঁকা হয়ে থাকাকে বলা হয় ‘লর্ডোসিস’। এই পরিস্থিতিতে মেরুদণ্ড ইংরেজি ‘সি’ অক্ষরের মতো আকৃতি ধারণ করে যা স্বাভাবিক নয়। বাত, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, মেরুদণ্ডের কোনো আঘাত থেকে এমনটা হতে পারে। এথেকেও হাঁটা ও বসার ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসতে পারে যা ডেকে আনবে পিঠ ব্যথা।

Related Posts

© 2022 Totka24x7 - Theme by WPEnjoy · Powered by WordPress