জগন্নাথ দেবের মূর্তির হাত অসম্পূর্ণ এবং নেই পা। কিন্তু কেন এমন?

More articles

কৃষ্ণ তাঁর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের সামনে আবিভূর্ত হয়ে পুরীর সমুদ্র তীরে ভেসে আসা একটি কাঠের টুকরো দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। তখন মূর্তি নির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন তিনি এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী সন্ধান পান এবং তাঁকেই মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব দেন। কিন্তু ওই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে এই কাজ গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করেন৷ সেই শর্তানুসারে – মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা দেবে না এবং কাজের অগ্রগতি নিয়ে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না।

সেই জন্য তিনি দরজা বন্ধ করে শুরু মূর্তি গড়ার কাজ শুরু করেন৷ এদিকে রাজা ও রানি সহ সকলেই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। প্রতিদিন তাঁরা বন্ধ দরজার কাছে যেতেন এবং শুনতে পেতেন ভিতরে কাঠে আঘাতের শব্দ। কিন্তু ৬-৭ দিন বাদে যখন রাজা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সময় সেই আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রাজা রানি কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। তখন দেখেন মূর্তি গড়ার কাজ তখনও অসমাপ্ত এবং সেই কাষ্ঠশিল্পীকে খুঁজে পাওয়া যায় না৷ আসলে ওই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা।

মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। পাশাপাশি কাজে বাধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন এবং রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ। এই রূপে বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে জগন্নাথদেবের পুজো শুরু হয়৷

Latest