নখ, ত্বক, চুলের যে পরিবর্তন উচ্চ রক্তচাপের জানান দেয়, বিস্তারিত জেনেনিন

উচ্চমাত্রার স্ট্রেস, স্থূলত্ব, খারাপ জীবনশৈলী ও নিম্নমানের খাদ্যাভ্যাসের কারণে বর্তমানে তরুণ-তরুণীর মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ মূলত লাইফস্টাইল ডিজিজ। ফলে উচ্চ রক্তচাপ থাকার অর্থ অন্যান্য শারীরিক সমস্যার আশঙ্কাও বেড়ে যাওয়া।

উদাহরণ হিসেবে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, স্ট্রোক, হার্ট ফেলিওর, আট্রিয়াল ফিব্রিলেশন, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, এবং ডিমেনশিয়ার কথা বলা যায়।

একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন যে তিনি ইতোমধ্যেই হাইপারটেনশনের মতো সমস্যায় আক্রান্ত? কিছু সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তির ত্বক, নখ, চুলের অবস্থা দেখেও কিন্তু ওই মানুষটি উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্কে আগাম আভাস করতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপ একদিনে হয় না। দিনের পর দিন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ফলশ্রুতি হল হাইপারটেনশন। ফলে অনেকক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে চুল, ত্বক ও নখের স্বাস্থ্যে বিশেষ কুপ্রভাব ফেলতে পারে হাইপারটেনশন।

এক সংস্থার করা দীর্ঘদিনের স্টাডি অনুসারে, উচ্চ রক্তচাপ ও ত্বকের বলিরেখার মধ্যে যথেষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে এই ধরনের সম্পর্কের সত্যতা পাওয়া গেছে।

রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরলের উপস্থিতি হার্টের নানা আর্টারিকে অনমনীয় করে দেয় যা রক্তে এবং অন্যান্য অঙ্গে যথেষ্ট মাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছনোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। বিশেষ করে শরীরের সবচাইতে বড় অঙ্গ ত্বকেও রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে বিশেষ সমস্যা তৈরি হতে পারে। ত্বকে সঠিক মাত্রায় রক্ত না পৌঁছলে, স্কিন দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বলিরেখাও পড়ে দ্রুত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নারীদের ক্ষেত্রে সামগ্রিক যৌবনময় উপস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে তাদের মুখে বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে উচ্চ রক্তচাপ। তবে ত্বক ছাড়াও চুল এবং নখেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে উচ্চ রক্তচাপ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, চুল ঝরে যাওয়াও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। গবেষকরা উচ্চ রক্তচাপ ও চুল পড়ার মধ্যে বিশেষ যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাদের তত্ত্ব অনুসারে উচ্চ রক্তচাপের কারণে চুলের গোড়ায় রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে চুল ঝরতে থাকে। এমনকী পড়তে পারে টাকও।

প্রজননক্ষম বয়সে নারীদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা প্রায়ই ধরা পড়ে। আবার রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন সিস্টেম (ব্লাড প্রেশারের নিয়ন্ত্রক) এর সঙ্গে হাইপারটেনশনের বিশেষ যোগ রয়েছে যা নারীদের মধ্যে ফাইব্রোসিস এর সমস্যা তৈরি করে যা চুল ঝরার মতো সমস্যাও তৈরির জন্য দায়ী।

অন্যদিকে কিছু কিছু স্টাডি ও বিশেষজ্ঞদের মত অনুসারে, মাঝের আঙুলের নখের গোড়ায় সাদা অংশের অনুপস্থিতি উচ্চ রক্তচাপের দিকে ইঙ্গিত করে। নখের গোড়ায় কিউটিকলের ঠিক উপরে থাকে এমন অর্ধচন্দ্রাকার লুনুলা। এমনকি ভগ্ন স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা কমে যাওয়ার দিকেও নির্দেশ করে নখের গোড়ায় সাদা অংশের অনুপস্থিতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপরোক্ত উপসর্গগুলো দেখলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, ব্লাড প্রেশার চেক করান। এছাড়া ডায়েটের প্রতি বিশেষ নজর দিন। বিশেষ করে লবণ খাওয়া কমান। খাবারে কাঁচা লবণ খাওয়া চলবে না। চলবে না রান্নায় বেশি লবণের ব্যবহার। মাখন, চিজ যথাসম্ভব কম খেতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য।

স্ট্রেস লেভেল কম করার জন্য চা এবং কফি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এক্সারসাইজ করতেই হবে। কিছু না পারলে ঘাম ঝরিয়ে হাঁটতে হবে। এক্সারসাইজ ব্লাড প্রেশার কমাতে সাহায্য করে।rs

Related Posts

© 2022 Totka24x7 - Theme by WPEnjoy · Powered by WordPress