শিশুর কানে হঠাৎ ব্যাথা? সমাধান রয়েছে রান্না ঘরেই

শিশুদের মধ্যে কান ব্যথা হওয়ার প্রবণতা একটু বেশিই দেখা যায়। কানে ইনফেকশন বা শোয়ার দোষ হোক, ফলাফল বেশ কষ্টের। কানে ব্যথা হওয়া যে কতটা বিরক্তিকর, অস্বস্তিকর এবং কষ্টকর, সেটা আমরা সবাই কম বেশি জানি।
কানে ইনফেকশন বা কানে ব্যথা হলে ওই ছোট্ট বাচ্চাগুলোর কত কষ্ট হয়, ভাবুন তো! বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে মা-ও অস্থির হয়ে পড়েন তাকে একটু আরাম দিতে। শিশুর কানে অসময়ে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে, কী করলে চটজলদি আরাম পাবে শিশুটি। আপনার রান্নাঘরেই আছে তার উপায়। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

কান ব্যথা হওয়ার কারণগুলো জেনে নিন-

>কোনো কারণে কানে সংক্রমণ।

>সাইনাস।

>কানে ময়লা মোমের মতো শক্ত হয়ে বসে গেলে।

>দাঁতের অসুখ, ক্যাভিটি বা দাঁত ওঠা।

বাচ্চার কানে ব্যথা বা ইনফেকশনের উপসর্গ-

> বার বার কানে হাত দেয়া বা কান টানা।

> শিশু অস্থির হয়ে পড়ে।

> ব্যথার কারণে কাঁদতে থাকে।

>জ্বর।

>ঘুমোতে পারে না।

>চিবোতে বা খেতে চায় না।

>কান থেকে তরল জাতীয় কিছু বেরিয়ে আসা।

কানে ব্যথা উপশমে ঘরোয়া টোটকা:

রসুন-পোঁটলা

তিন থেকে চারটি রসুনের কোয়া ছাড়িয়ে নিয়ে একটু জলে সামান্য লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। এবার অল্প লবণ জলসহ ওই কোয়াগুলো চটকে নিন। তারপর ওই চটকানো রসুন একটি ফ্লানেল বা উলের কাপড়ে মুড়ে, শিশুর যে কানে ব্যথা সেখানে চেপে রাখুন। রসুনের ব্যাকটেরিয়া নাশক ধর্ম কানের ব্যথায় আরাম দেয়। এছাড়াও রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও কানের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

পেঁয়াজ সেঁক

পেঁয়াজ গ্রেট করে হাতে চিপে রস বের করে নিন। এক থেকে দুই ফোঁটা রস শিশুর ব্যথা কানে দিন। পেঁয়াজের রসে তুলো ডুবিয়েও সেই তুলো বাচ্চার কানে আলতো করে চেপে ধরতে পারেন। পেঁয়াজের টুকরো যেন কোনো ভাবেই শিশুর কানে না ঢোকে সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখুন।

পুদিনা পাতার রস

ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহরোধ করে। কয়েকটি পুদিনা পাতা থেঁতলে রস বের করুন। দুই ফোঁটা রস কানে দিন। কানের সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য এটি খুব প্রচলিত ঘরোয়া উপায়।

আপেল সিডার ভিনেগার

শিশুর যে কানে ব্যথা, সেখানে এক থেকে দুই ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে শিশুর মাথা কাত করে দিন। এতে কান দিয়ে আবার ওই ভিনেগার গড়িয়ে বেরিয়ে আসবে। এই ভিনেগারও কানের ব্যথা কমাতে কার্যকরী।

গরম সেঁক

লবণের পোঁটলা করে বা তোয়ালে দিয়ে শিশুর কানে সেঁক দিন। গরম সেঁক যে কোনো ব্যথায় খুব কাজ করে। শিশুকে সেঁক দেয়ার সময় নিজের কনুই দিয়ে তোয়ালে বা পোঁটলার উষ্ণতা দেখে নিন। সেঁক যেন আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।