দিনে ১০ মিনিট লাফালে চর্বি উধাও হয়ে যাবে!

বাড়তি ওজন কারোরই কাম্য নয়। তবে আমাদের দৈনন্দিন কাজের কিছু ভুল ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস দেহের ওজন বাড়ার জন্য দায়ী। ঘর থেকে বের হওয়া, অতিরিক্ত কাজের চাপ, অসময়ে খাওয়া, অধিক মাত্রায় জাঙ্ক ফুড খাওয়া ইত্যাদি অভ্যাসগুলো দেহে ওজন বাড়ায় অস্বাভাবিকভাবে।
তবে এখন যেহেতু করোনার প্রভাবে ঘরে থাকতে হচ্ছে, তাই এসব বাড়তি ঝামেলাও আর পোহাতে হচ্ছে না। তাই ঘরে বসেই নিজেকে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিন ওজন কমাতে। এতে ১০ দিনেই ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন। তাছাড়া ওজন কমতে শুরু করলে আপনার দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। এতে আপনি সুস্থ ও সুন্দর জীবন কাটাতে সক্ষম হবেন।

ফিটনেস বিশেষজ্ঞ সুকোমন সেনের মতে, ‘‘প্রতি দিন একটু সময় করে নিয়ম করে লাফ দড়ি বা স্কিপিং নিয়ে ঘাম ঝরালেই শরীরে বাড়তি মেদের ভার লাঘব হবে অনেকটাই। একটানা ৩৫ মিনিট হাঁটা বা বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে জগিং বা দৌড়নোয় যতটা মেদ ঝরে তার চেয়েও বেশি মেদ ঝরে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাফানোয়।’’

তবে প্রথম দিকে দশ থেকে পনেরো মিনিট একটানা করতে না পারলেও সমস্যা নেই। সপ্তাহ দুয়েক পর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। স্কিপিংয়ের কতগুলো নির্দিষ্ট উপায় থাকে, যা জানলে তা অভ্যাস করা ও মেদ ঝরানোর কাজ অনেকটা সহজ হয়।

সকালের দিকে দড়িলাফের অভ্যাস গড়ে তুলুন। দড়িটি দু’হাতে নিয়ে এমন ভাবে লাফান, যাতে দড়িটি দু’পায়ের তলা দিয়ে গিয়ে মাথার উপর দিয়ে ঘুরে আসে। দড়িলাফের আরও কিছু পদ্ধতি রয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

অল্টারনেট ফুট স্টেপ

এক্ষেত্রে দু’পা জোড়া করে একসঙ্গে লাফানো যাবে না। এক বার ডান পায়ের নিচ দিয়ে দড়ি নিয়ে যেতে হবে। আর এক বার বাঁ পা দিয়ে একই পদ্ধতিতে লাফাতে হবে। দড়ির গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পায়ের ছন্দ।

বক্সার স্টেপ

অল্টারনেট ফুট স্টেপের মতোই প্রত্যেক লাফে পা বদলাতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সেই লাফের উচ্চতাও বেশি হবে। আগে-পিছে দু’পায়ের মধ্যে ফাঁক থাকবে বেশি। এই লাফ খুব দ্রুতলয়ে হয় না।

জাম্প রোপ ক্রিসক্রস

দু’হাতে লাফদড়ি নিয়ে এক বার স্বাভাবিক ভাবে পায়ের তলা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পরের বার হাত ক্রশ করে সেই দড়ি পায়ের তলা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই লাফ প্রথমে কঠিন মনে হলেও, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।

ব্যাকওয়ার্ড জাম্পিং

এই লাফের বেলায় দড়ি মাথার উপর দিক থেকে পায়ের নিচে না এনে পায়ের নিচ থেকে ঘুরিয়ে মাথার উপরে আনতে হবে। মানে একদম উল্টো ভাবে করতে হবে।