চিকিৎসকরা খুব কমই সতর্ক করেন অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে…..

আমরা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পর নানান মানুষের বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ খবর করেছি। আপনিও চাইলে ওষুধের প্যাকেটে দেওয়া কাগজ থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো জেনে নিতে পারেন।
১.দাঁতের রং পাল্টে যাওয়া
৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের টেট্রাসাইক্লিন খাওয়ালে দাঁতের রং পাল্টে যেতে পারে। আবার কোনো গর্ভবতী মা টেট্রাসাইক্লিন গ্রহণ করলে তার শিশুর এনামেল দুর্বল হয়।
কি করণীয়: বিজ্ঞানীরা ডক্সিসাইক্লিন নামক একটি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছেন, যা দাঁতের রং পরিবর্তন করে না।
২.জ্বর
সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক নিলে জ্বর হয় না। কিন্তু যদি অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়ার সাথে সাথে আপনার জ্বরে আক্রান্ত হন তাহলে আপনার সম্ভবত এই ওষুধে অ্যালার্জি রয়েছে, যা থেকে জ্বর চলে এসেছে। যদি তাই হয়, তাহলে আপনার যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণেই জ্বর আসতে পারে। বিশেষ করে বিটা ল্যাক্টাম, সেফালেক্সিন, মিনোসাইক্লিন, এবং সালফোনামইড গ্রহণে জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
কি করণীয়: সাধারণত নিজে নিজেই জ্বর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে চলে যায়। কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে এবং জ্বর কমানোর পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক পাল্টে দেওয়ার অনুরোধ করতে হবে।
৩.রোদে সমস্যা হওয়া
কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (tetracycline, fluoroquinolone, and sulfone) রোদে আপনার ত্বক স্পর্শকাতর করে দিতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পর রোদে আপনার ত্বক পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ মিনিট রোদে থাকলে ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়।
কি করণীয়: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোদে না যাওয়া সবচেয়ে ভালো উপায়। কিন্তু তবুও যদি যেতে হয় তাহলে শরীর ভালো ভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
৪.মাথা ব্যথা এবং ঘোরানো
মাথা ব্যথা এবং মাথা ঘোরানোও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের খুব পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু ওষুধ বন্ধ করে দিলে এই সমস্যা চলে যায়।
কি করণীয়: যদি মাথা ব্যথা খুব তীব্র না হয়, তাহলে পেইনকিলার ওষুধ সেবন করুন। কিন্তু যদি অসহ্য মাত্রায় চলে যায় তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।
৫.অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন
অ্যান্টিবায়োটিকের অন্যতম বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন। অ্যালার্জিক রিয়্যাকশনের কারণে চুলকানি, র‌্যাশ, চোখ, ঠোঁট, জিহ্বা, এমনকি গলা পর্যন্ত ফুলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় অ্যাড্রেনালিনের একটি ডোজ রোগীকে বাঁচাতে পারে। মনে রাখবেন, একটি অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হওয়ার মানে এই না যে আপনি অন্য কোনো অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে পারবেন না।
কি করণীয়: দ্রুত ডাক্তারকে জানাতে হবে, ডাক্তার কে না পেলে প্রেসক্রিপশন সহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।