ঘরোয়া টোটকায় কি ঋতুস্রাবের সময় পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব? জেনেনিন বিস্তারিত

প্রতি মাসের নির্দিষ্ট একটি তারিখে প্রত্যেক নারীরই ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। নিয়মিত ঋতুস্রাব না হলে শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। তাই বলে নিয়মিত ঋতুস্রাব বেশ বিড়ম্বনার কারণও হয়ে ওঠে। পিরিয়ড চলাকালীন বা এর আগে-পরে অসংখ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে প্রায় ৫০ শতাংশ নারী পিরিয়ড সংক্রান্ত নানা সমস্যায় ভোগেন।

তাইতো প্রত্যেক নারীই হয়তো কোনো না কোনো সময়ে তাদের ঋতুস্রাবের দিন কিছুটা পেছাতে চান। হয়তো বড় কোনো অনুষ্ঠান রয়েছে, কিংবা মধুচন্দ্রিমার বেড়ানো রয়েছে, কিংবা ক্রীড়াবিদদের হয়তো কোনো বড় খেলা রয়েছে— কারণ যা-ই হোক, ঋতুস্রাবের ঝক্কি কিছু দিন পিছিয়ে দেওয়ার দরকার হয় প্রায় সব নারীরই।

স্ত্রীরোগ চিকিৎসকরা বারবার মনে করিয়ে দেন, এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেয়ে তবেই ঋতুস্রাব পেছানোর কথা। কিন্তু অনেকেই ঘন ঘন এই ধরনের হরমোনাল ওষুধ খেতে চান না। তখন তারা ভরসা রাখেন ঘরোয়া টোটকায়।

ইন্টারনেটে একটু খুঁজলেই এমন হাজারটা টোটকা পাওয়া যাবে। ভেষজ চা, লেবুর রস, জেলাটিনের মতো হেঁশেলের নানা উপাদানে ঋতুস্রাব পেছানো সম্ভব। তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় যা বারবার পাওয়া যায়, তা হলো অ্যাপল সাইডার ভিনেগার। কিন্তু এই উপায়গুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর?

‘হেলথলাইন’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে নিয়মিত অ্যাপল সাইডার ভিনেগার খেয়ে ঋতুচক্রে কোনো বদল আনা সম্ভব হয়নি। একমাত্র যে নারীরা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পিসিওস-এ আক্রান্ত, তাদের ঋতুচক্রে বদলে আনতে পেরেছে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার। তবে সেটা ঋতুস্রাব পিছিয়ে দিতে নয়, বরং সময় মতো হতে সাহায্য করেছে।

তাছাড়া দেখা গিয়েছে, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার নিয়মিত খাওয়ার কিছু অপকারিতাও রয়েছে। যেমন- দাঁতের ক্ষয় হতে পারে, অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে, এমনকি গলার কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সরাসরি অ্যাপল সাইডার ভিনেগার না খেয়ে খানিকটা জলের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এই সমস্যাগুলো তেমন হবে না।

কোনো রকম ঘরোয়া টোটকাতে যে ঋতুস্রাব পেছানো যায়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পর্যন্ত মেলেনি। তাই কোনো কারণে যদি ঋতুস্রাব পেছানোর একান্তই প্রয়োজন পড়ে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়।

Related Posts

© 2022 Totka24x7 - Theme by WPEnjoy · Powered by WordPress