জীবনযাপন

রোগ প্রতিরোধে তেজপাতার ম্যাজিক গুলি,জানেন কি?

প্রাচীন গ্রীকে ঐতিহ্যগত ওষুধ তৈরিতে সুগন্ধিযুক্ত তেজপাতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। তেজপাতার নানা গুণ নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। তেজপাতা যে শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় তা-ই নয়, এর ভেষজ নানা গুণ বিভিন্ন কাজে লাগে।

ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনেই তেজপাতার প্রথম উৎপাদন হয়। তার পর ধীরে ধীরে তা বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। রান্নায় মসলার উপাদান হিসেবেই তেজপাতা ব্যবহার হয়ে থাকে। তেজপাতায় আছে ভিটামিন ‘ই’ ও ‘সি’, রয়েছে ফলিক অ্যাসিড। এতে থাকা বিভিন্ন খনিজ উপাদান ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে।

এছাড়াও আরও বেশ কিছু উপকারি উপাদানের সন্ধান পাওয়া যায় তেজ পাতায়। যেমন, কপার, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম, মেঙ্গানিজ, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম।

প্রাচীনকালে গর্ভপাত করার জন্য তেজপাতাকে মহৌষধি মানা হত। তাছাড়া পেটফোলা, গা বমি বমি ভাব হলে তেজপাতার পেস্ট বানিয়ে খেলে দ্রুত লাভ পাওয়া যায়। তেজপাতার নানা গুণ সম্পর্কে জেনে নিই।

তেজপাতা ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। কিছু গবেষণায় দেখা যায় তেজপাতা ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে। এতে ফাইটোনিউট্রিয়ান্স ও ক্যাটচীন উপাদান থাকায় এটি ক্যানসার কোষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একটি গবেষণা অনুযায়ী তেজপাতা ব্রেস্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

তেজ পাতায় থাকা ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ শরীরকে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে তেজ পাতায় উপস্থিত ফলিক অ্যাসিড একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে থাকে।

তেজপাতা আয়ু বাড়াতে বেশ কার্যকর। তাহলে আজ থেকেই সকাল-বিকাল তেজ পাতা দিয়ে বানানো চা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই জানতে পারবেন কীভাবে তেজ পাতা আয়ু বাড়ায়। একটা বাটিতে ৩ গ্লাস পানি নিয়ে ফোটাতে শুরু করুন। যখন দেখবেন পানিটা ফুটতে শুরু করেছে, তখন তাতে ১০টা তেজপাতা ফেলে দিন। পাত্রের পানিটা ফুটতে ফুটতে যখন এক গ্লাসের মত হয়ে যাবে, তখন আঁচটা বন্ধ করে পানিটা ছেঁকে নিয়ে সেই পানিটা চায়ের মতো করে পান করুন।

গবেষণায় দেখে গেছে, তেজপাতা শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে এটি কিডনির সমস্যা করে ও অন্যান্য গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে।

তেজপাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। একটি গবেষণায় দেখা যায় দিনে অন্তত দুইবার তেজপাতা গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে। এটি প্রমাণ হয়েছে যে, তেজপাতায় থাকা উপাদান ইনসুলিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন তাদের জন্যেও তেজপাতা বেশ উপকারী।

তেজপাতা আপনার স্বাভাবিক হজমশক্তি ফিরিয়ে আনবে। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয়। অতিরিক্ত প্রস্রাবের সমস্যা কমায় ও হজম রস তৈরিতে এটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। তেজপাতায় থাকা এনজাইম দ্রুত খাবার ভাঙতে পারে ফলে যারা অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য তেজপাতা অনেক উপকারী।

তেজপাতায় রয়েছে রুটিন ও ক্যাফেক অ্যাসিড। এ উপাদানগুলো হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে তেজপাতা।

তেজপাতা প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি যেকোনো ধরনের মাথা ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথা এমনকি বাতের ব্যথা উপশমে কার্যকরী। তেজপাতা ও রেড়ির পাতার (ক্যাস্টর) পেস্ট আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া পাতার তেল কপালে ম্যাসাজ করলে মাথা ব্যথা থাকবে না।

তেজপাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও মাইক্রোব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় এটি ক্ষত সারাতে দারুণভাবে কাজ করে। এটি ক্যান্ডিডার মত ছত্রাক সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

যদি ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হন ও কাঁশির সমস্যায় ভোগেন তাহলে ব্যাকটেরিয়া তাড়াতে এটি আপনাকে চমৎকারভাবে সাহায্য করবে। ৪-৫টি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করুন। পানি কুসুম ঠাণ্ডা করে নিন। একটি পরিষ্কার কাপড় পানিতে ভিজিয়ে বুক মুছুন। কয়েকবার এটি করুন। আর খেয়াল রাখবেন পানি যেনো খুব বেশি গরম না হয়।

মনমেজাজ ভালো না লাগে তাহলে এক কাপ তেজপাতার চা খেয়ে দেখতে পারেন। এটি আপনার স্নায়ু শান্ত করে ও উদ্বিগ্নতা কমায় এমনকি ভালো ঘুমের জন্যেও উপকারী।

চুলের নানা সমস্যা দূর করতে তেজপাতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খুশকি থেকে শুরু করে চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যাকে বাগে আনতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।

Related Articles

Back to top button