জগৎপালক শ্রী শ্রী জগন্নাথ

More articles

চিরবসন্ত পুরী। সামনে উত্তাল সমুদ্র। মাঝে মধ্যে সৈকতকে স্পর্শ করে প্রদর্শন করছে এক দর্প। খন্ডিত হচ্ছে সহস্রাধিক বারি বিন্দুতে। আবার মিলিয়ে যাচ্ছে মহাস্রোতের সাথে। দিবারাত্রি এই প্রকারেই চলছে এই বিশ্বপিতার লীলা, যা সাধারণের পক্ষে অনুধাবন করা প্রকৃত অর্থেই এক কঠিন ধাপ! এক মুঠো নীল গগনের নীচে তারই আলয় স্বমহিমায় বিরাজমান। নাম জগন্নাথ ধাম। এই পবিত্র রথযাত্রা তাঁকে ঘিরে!

পুরাণ বা ঐতিহাসিক তথ্যে উল্লেখিত আছে যে দেবতার মূর্তি নির্মাণ করতে এক কারিগর রাজি হয়েছিলেন সেই সময়ের এক মহারাজের অনুরোধে। তবে শর্ত ছিল যে মহারাজ দেবালয় এ প্রবেশ করতে পারবে না মূর্তি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত! কিন্তু  বিধাতার ছিল ভিন্ন অভিপ্রায়।মহারাজ তাঁর অতীব কৌতুহলে বশীভূত হয়ে, মন্দিরে প্রবেশ করেন। দেবতার মূর্তি অসমাপ্ত থেকে যায়। তাই পুরীর এই জগৎপালকের মন্দিরে শ্রী হরি, শুভদ্রা ও বলরামের হস্ত অবর্তমান!  বলা বাহুল্য তবুও তাঁরা নিরন্তর কৃপা বর্ষণ করে যাচ্ছেন। এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর দেবতার কলেবর পরিবর্তিত করা হয়। দেবতাকে স্নান ও শুদ্ধাচারের মাধ্যমে পুনরায় দেবালয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ভোগ নিবেদন করা হয়। ভক্তবৃন্দের নিকট জগৎ পিতা এক বড় কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন।

উৎসবের এই পুণ্য লগ্নে, বিভিন্ন স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া জিলিপি ও পাঁপড় ভাজা তো আছেই উৎসবকে আর একটু মুখরোচক করে তোলবার জন্য। মেলায় ভীড় উপচে পড়ে! ছোট বড় সকলে মেখেছে উৎসবের রেণু, বাদ যায়নি প্রবীণরা। কথায় আছে রথের দড়ি এক বার স্পর্শ করলে সকল কামনা পূর্ণ হয়। বর্ষা ঋতুর এই  বৃহৎ উৎসব মনে করিয়ে দেয় জগৎ জননীর কথা। তিনিও তো আসছেন এই মর্তধামে। এক কথায়, উৎসবের মরসুম শুরু হয়ে গেছে। এই আনন্দের মহাযজ্ঞ এ আমরা আরেক একবার নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে চলেছি। এক নির্মল, স্বচ্ছ ও প্রাণোচ্ছল বাতাবরণ যা সকল গ্লানিকে পরিহার করে সুখ ও সমৃদ্ধির অনন্ত রূপকে বিকশিত করে চলেছে এই মায়াধরণীর মাঝে!!

“শুভ রথযাত্রা”

– কুণাল রায়
সহ অধ্যাপক, ইংরেজী বিভাগ,
জর্জ কলেজ ,কলকাতা।

Latest