মোটা হয়ে যাচ্ছেন? ডায়াবিটিস ধরা পড়েছে? তাহলে নির্ভয়ে খান চকলেট

চকলেট খেতে ভালবাসেন? যদিও চকলেট খেতে ভালবাসেন না, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। এই যেমন আমি নিজের কথাই বলি। ব্রেকফাস্ট সারার কিছুক্ষণ পরেই মনে হল, খিদে পাচ্ছে। ব্যস! অমনি একটুকরো চকলেট মুখে পুরে নিলাম। বা ধরুন, অফিসে যখন-তখন খিদে পেল বা রাত জেগে গল্পের বইপড়া- মুভি দেখার সময় ছোটখাটো খিদে পেল। তখন আর কী! মুশকিল আসান সেই চকলেটই। এটা বলাই বাহুল্য যে, ছোট থেকে বয়স্ক- সকলেই মোটামুটি চকলেটের ফ্যান। অথচ এখন যা লাইফস্টাইল, তাতে বাড়ছে ওজন । বাড়ছে ডায়াবিটিসের) মতো রোগ। যার জেরে হৃদরোগের আশঙ্কাও অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।

ওবেসিটির চক্করে তাই অনেকেই প্রিয় চকলেট ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি ডায়াবিটিসের ভয়েও সাধের চকলেট ত্যাগ করেছেন বহু মানুষ। তবে বিজ্ঞানীরা কিন্তু অন্য কথা শোনাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, চকলেট কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভাল। বিশেষ করে ডার্ক চকলেট। চকলেটের নানা রকম উপকারিতার তালিকাও রয়েছে। যেমন- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ওজন কমাতে সাহায্য করে, ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে রাখে চকলেট । শুধু তা-ই নয়, সামান্য ঠান্ডা লাগা , সর্দি-কাশিতেও দারুণ কাজ করে চকলেট । আর উজ্জ্বল স্কিনের জন্য তো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চকলেট ।

ঠান্ডা লাগা-সর্দি-কাশিঃ যে সমস্যাটা প্রায় সব সময়ই লেগে থাকে সেটা হল ঠান্ডা লাগা (cold)। মরসুম পরিবর্তনে তো বটেই, আর ঠান্ডার ধাত থাকলে তো হয়েই গেল! আর ঠান্ডা লাগা (cold) মানেই তো হাঁচি-সর্দি-কাশি-জ্বর জ্বর ভাব-গলা ব্যথা! এই সব কিছুর যম হচ্ছে চকলেট। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। ইংল্যান্ডে বেশ কিছু স্টাডিতে এটা প্রমাণিতও। শুধু তা-ই নয়, মাথা ব্যথা অথবা মাইগ্রেন কমানোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চকলেট।

ক্যান্সারঃ ক্যান্সারের (cancer) মতো মারণরোগের সঙ্গে যুঝতেও সেই চকলেট। কারণ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ক্যান্সারের (cancer) সঙ্গে লড়ার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস। বলা হয়, চা হচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসের উত্স। তবে গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডার্ক চকলেটে চায়ের প্রায় চার গুণ বেশি অ্যান্টিঅক্সিড্য়ান্টস রয়েছে। এমনকি স্ট্রবেরির থেকেও বেশি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস ডার্ক চকলেটে।

হৃদযন্ত্রের সমস্যাঃ প্রতিদিন ডার্ক চকলেট খান। হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়বে। কারণ হচ্ছে চকলেটের মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টটি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই ফ্ল্যাভনয়েডের।

স্ট্রোকঃ স্ট্রোকের (stroke) ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে ডার্ক চকলেট। এর মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভনয়েড অ্যান্টি অক্সিড্যান্টটি রক্তপ্রবাহ এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে ব্লাড ক্লট হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। ফলে কমে স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

ওজন কমাতেঃ ওজন কমানোর জন্যও খুবই ইম্পর্ট্যান্ট চকলেট (chocolate)। হ্যাঁ ঠিকই বলছি। ওজন (obesity) বেড়ে যাওয়ার ভয়ে ডায়েট চার্টে নির্ঘাত কোপ পড়েছিল চকলেটের উপর। তা হলে আপনার জন্য সুখবর! ওজন কমাতে আপনার ডায়েট প্ল্যানে ফিরিয়ে আনুন সাধের প্রিয় চকলেটকে। ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহাগেনের একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।

প্রেগন্যান্সিতেঃ প্রেগন্যান্সিতে (pregnancy) রোজ চকলেট (chocolate) খান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সব মহিলারা প্রেগন্যান্ট অবস্থায় রোজ চকলেট খেয়েছেন, তাঁরা অনেক সুন্দর ভাবে স্ট্রেস হ্যান্ডেল করেছেন। তা ছাড়াও আর একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সব মহিলারা প্রেগন্যান্সির সময় চকলেট (chocolate) খান, তাঁদের বাচ্চারা বেশ হাসিখুশি হয়।

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণঃ ডার্ক চকলেট রক্তে সুগারের মাত্রা কমায় এবং রক্তচাপও স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। আজকাল ডায়াবিটিসের (diabetes) সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরে। ফলে ডার্ক চকলেট খেয়ে দেখুন।

তা হলে আর ভাবছেন কেন? চোখ বুজে খান চকলেট। আপনার ডায়েট প্ল্যানে থাকুক আপনার সাধের চকলেট (chocolate)!rs

Related Posts

© 2022 Totka24x7 - Theme by WPEnjoy · Powered by WordPress