জীবনযাপন

করোনা থেকে বাঁচতে শিশুর জন্য কোন মাস্ক নিরাপদ? জেনেনিন বিস্তারিত

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে! এ কারণে স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে শিশুরা কতটা ঝুঁকিমুক্ত?

এরই মধ্যে প্রাপ্তবয়স্করা করোনা টিকা নিলেও শিশুদের জন্য এখনও কোনো টিকা নেই। এই পরিস্থিতিতে শিশুদেরকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো মাস্ক।

পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ও হাত স্যানিটাইজ ব্যবহারের বিকল্প নেই। শুধু মাস্কের মাধ্যমে করোনা থেকে নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবলেই হবে না।

সেই মাস্ক পরে শিশুরা আরামবোধ করছে কি না তাও বুঝতে হবে। শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে যাতে অসুবিধা না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। তবে শিশুর জন্য কোন ধরনের মাস্ক উপযুক্ত?

এন-৯৫ মাস্ক

দ্য ইউএস সেন্টারস ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, সার্স কোভ-২ থেকে সুরক্ষায় এন-৯৫/এফএফপি২ মাস্ক বা এর সমান যোগ্যতাসম্পন্ন মাস্ক পরতে হবে। এ ধরনের মাস্ক পরলে বিপজ্জনক করোনাভাইরাস ফিল্টার করা যায়।

তাই শিশুদের ক্ষেত্রেও এই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, এই মাস্ক যাতে ৯৫-৯৯ শতাংশ পরিশোধন করতে ও লিকেজ আটকাতে পারে। একইসঙ্গে নাক ও মুখ যেন মাস্ক দিয়ে ভালোভাবে ঢাকা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

কাপড় দিয়ে তৈরি যে কোনো মাস্ক শিশুকে পরানো যাবে না। বর্তমানে নানা ধরনের কাপড় ও ডিজাইনের মাস্ক পাওয়া যায়। অনেকেই পছন্দের রং ও ডিজাইনে আকৃষ্ট হয়ে সেগুলো কিনছেন। আসলে এসব মাস্ক একেবারেই সুরক্ষা দিতে পারে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশান অ্যাজেন্সির মতে, তিন লেয়ারবিশিষ্ট সুতির মাস্ক ২৬.৫ শতাংশ কণা আটকাতে পারে।

অন্যদিকে দুই লেয়ারবিশিষ্ট নাইলন মাস্ক যেগুলোতে ফিল্টার ও নাক ভালোভাবে ব্লক করার জন্য মেটাল ক্লিপ আছে, সেগুলো ৭৯ শতাংশ কার্যকরী। তবে শিশুদের জন্য কাপড়ের মাস্কের তুলনায় এন-৯৫/এফএফপি ২ মাস্কই অধিক কার্যকরী।

কারণ এই মাস্কগুলোতে অর্গ্যানিক অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল কোটিং থাকে। যা এর পৃষ্ঠতলেই সার্স কোভ ২ ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। এই মাস্ক অন্যান্য সাধারণ মাস্কের মতো শুধু ফিল্টারই করে না বরং এর পৃষ্ঠতলে থাকা করোনা ভাইরাসকে ধ্বংসও করে।

শিশুদের প্রশিক্ষণ জরুরি

শুধু মাস্ক পরালেই হবে না বরং শিশুকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণও দিতে হবে। সঠিক উপায়ে মাস্ক ব্যবহার করা, স্যানিটাইজার ব্যবহার, হাত ধোয়াসহ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সবকিছুই শেখাতে হবে শিশুকে। তবেই নিরাপদে থাকবে শিশু।

Related Articles

Back to top button