ডায়েট ছাড়াই ওজন কমাতে চাইলে খেতে হবে সবুজ কফির ট্যাবলেট! জেনেনিন

More articles

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের পরিচিত একটি পানীয় হচ্ছে সবুজ চা। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ একটু তেতো এই পানীয়ের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। চা পান করে যারা অভ্যস্ত সুস্থ থাকার জন্য সবুজ চা তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হলেও যারা কফি ভালবাসেন তারা কি করবেন? সবুজ কফি খাবেন? ঠিক তাই!

সবুজ কফি– ব্যাপারটা শুনতে কেমন কেমন লাগছে মনে হলেও আসলে এটিও আরেকটি উপকারী খাদ্য। পানীয় হিসেবে নয় বরং ট্যাবলেট বা পিল হিসেবেই এটা মূলত গ্রহণ করা হয়। তবে স্টারবাকস নামের বিখ্যাত কফি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি এনার্জি ড্রিঙ্ক হিসেবেও সবুজ কফি বিক্রয় করা শুরু করেছে। আর এই সবুজ কফির উপকারিতা কি? পেনসিলভেনিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ স্ক্র্যান্টন এর একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত ওজনের মানুষেরা এই সবুজ কফির ট্যাবলেট খাবার মাধ্যমে অনেক দ্রুত নিজের ওজন কমিয়ে আনতে সক্ষম হন।

আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির সভায় এই গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এ পরীক্ষায় ১৬ জন অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন এবং তাদেরকে নিয়মিত সবুজ কফির ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হয়। ২২ সপ্তাহ ধরে তাদেরকে তিনবেলা খাবার আধা ঘণ্টা আগে এই ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই ব্যক্তিরা নিজেদের খাদ্যাভ্যাস অথবা ব্যায়ামের অভ্যাস পরিবর্তন করেননি। তারা দৈনিক মোটামুটি ২৪০০ ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবার খান এবং এর মধ্যে ৪০০ ক্যালোরি হারায় তাদের ব্যায়াম করার মাধ্যমে। দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা গড়ে ১৭ পাউন্ড ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছেন। এ থেকে বলা যায় শরীরের মোট ওজনের প্রায় ১০ শতাংশই কমানো সম্ভব হয়েছে এই পরীক্ষায়। এই ট্যাবলেটের ডোজ বাড়ালে ওজন কমানোর হারও বেড়ে যায়। এর চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, এদের শরীরের চর্বির পরিমাণ কমে আসে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। এত ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরেও এতটা ওজন কমে আসা সত্যিই অনেক অসাধারণ। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি এই পরীক্ষায়।

সবুজ কফিতে এমন কি উপাদান আছে যা থেকে এত ওজন কমানো সম্ভব হয়? আগে দেখা যাক সবুজ কফি আসলে কিভাবে তৈরি হয়। আমরা যে বাদামি রঙের কফির গুঁড়ো থেকে পানীয় কফি তৈরি করি তা আসে কাঁচা কফির বীজ তাওয়ায় ভেজে গুঁড়ো করার ফলে। এ থেকেই কফির একটা সতেজ গন্ধ এবং গাড় রঙ আসে। কিন্তু সবুজ কফির ক্ষেত্রে একে এভাবে ভাজা হয় না। বরং গাছ থেকে তুলে কাঁচা কফির বীজটাকেই জলে ডোবানো হয়। ক্ষেত্রবিশেষে একে সিদ্ধ করা হয়। এভাবে এই বীজ থেকে বের করে আনা হয় প্রাকৃতিক উপাদানগুলো এবং এই জল শুকিয়ে তৈরি করা হয় গুঁড়ো বা এক্সটাক্ট। একেই পরে ট্যাবলেটের আকৃতি দেওয়া হয় অথবা গুঁড়ো হিসেবেই বাজারজাত করা হয়। এতে থাকে ক্যাফেইন এবং আরও কিছু প্রাকৃতিক রাসায়নিক পদার্থ। এদের মাঝেই একটি পদার্থ ওজন এবং চর্বি কমাতে কাজ করে। গবেষকদের মতে, এই পদার্থটি ক্যাফেইন নয়, বরং ক্লোরোজেনিক এসিড। ক্লোরোজেনিক এসিড সাধারণ বাদামি কফি গুঁড়ায় থাকে না কারণ কফি বীজ ভাজার সময় এটি ভেঙ্গে যায়। শরীরে শর্করা শোষণের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এই পদার্থ এবং তাই ধারণা করা হচ্ছে এটি ওজন কমাতে সহায়ক।

তো এই গবেষণা থেকে কি সুবিধা হল আমাদের? এখন আমরা সবাই সাধারণ চা কফি বাদ দিয়ে সবুজ কফির ট্যাবলেট খেতে শুরু করবো? সেটা করার আগে একটু জেনে নিন, যে এই ট্যাবলেট খেতে ভয়ংকর তিতকুটে। আর যদি পানীয় হিসেবে খান তবে মুখ তিতো হয়ে থাকবে অনেকক্ষণ। আর এর ওজন কমানোর এই ক্ষমতা নিয়ে আরও গবেষণা করার প্রয়োজন। কারণ এই গবেষণাটি মোটে ১৬ জন মানুষকে নিয়ে এবং অনেক কম সময়ে করা হয়। তবে এটা ঠিক যে এর রয়েছে অনেক সম্ভাবনা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি অতিরিক্ত ওজনের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে।

Latest