সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে বহু!

Written by TT Desk

Published on:

সামুদ্রিক বিভিন্ন খাবারে রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। বিশেষত সামুদ্রিক মাছ ও শামুকে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। বয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশের যে প্রবণতা দেখা যায়, সপ্তাহে একদিন সামুদ্রিক খাবার গ্রহণে তা প্রশমিত হয়। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও এটি কাজে লাগে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন।

বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে স্মৃতিশক্তি লোপসহ চিন্তাপদ্ধতির সমস্যা দেখা যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যা বাড়তে থাকে। এর প্রতিকার খুঁজে বের করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন গবেষকরা। সম্প্রতি শিকাগোর রুশ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার ও নেদারল্যান্ডসের ওয়েজেনিংজেন ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এ-বিষয়ক একটি গবেষণা চালান। এতে নেতৃত্ব দেন নিউট্রিশনাল এপিডেমিওলজিস্ট মার্থা ক্লেয়ার মরিস। আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজি থেকে প্রকাশিত ‘নিউরোলজি’ জার্নালে গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ হয়েছে।

মোট ৯৫১ ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালানো হয়, যাদের গড় বয়স ছিল ৮১ দশমিক ৪ বছর। অংশগ্রহণকারী এসব ব্যক্তির ওপর স্মৃতিশক্তি-সম্পর্কিত বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হয়। পাশাপাশি তাদের খাদ্যতালিকার একটি বিবরণ সংগ্রহ করেন গবেষকরা। এছাড়া তারা কী পরিমাণ সামুদ্রিক খাদ্য গ্রহণ করেন, সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী এসব ব্যক্তিকে গবেষকরা গড়ে পাঁচ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, পরিমিত সামুদ্রিক খাবার গ্রহণ স্মৃতিভ্রংশ মোকাবেলায় কাজে লাগে। সামুদ্রিক খাবারে বিদ্যমান ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের কারণে এটি ঘটে। গবেষণা চলাকালে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কারো মধ্যেই স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণ দেখা যায়নি।

অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের দুটি দলে বিভক্ত করা হয়। যারা নিয়মিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সামুদ্রিক খাবার গ্রহণ করেন, এমন ব্যক্তিদের রাখা হয় একটি দলে। অন্য দলটিতে রাখা হয়, যারা নিয়মিতভাবে এ খাবার গ্রহণ করেন না তাদের। এতে দেখা যায়, যারা বেশি সামুদ্রিক খাবার গ্রহণ করছেন, তাদের বাচিক স্মৃতি (সিমেন্টিক মেমোরি) অন্যদের তুলনায় কম হারে ক্ষয় হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো কিছুকে দ্রুত চিহ্নিত বা অন্য কিছুর সঙ্গে এর তুলনা করার ক্ষমতাও (পারসেপচুয়াল স্পিড) অন্যদের তুলনায় তাদের বেশি থাকে। তবে স্মৃতি-সম্পর্কিত অন্য তিনটি মানদণ্ডে এ দুটি দলের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখতে পাননি গবেষকরা। ওই তিনটি মানদণ্ড হচ্ছে— এপিসোডিক মেমোরি, ওয়ার্কিং মেমোরি ও ভিজুওস্প্যাশাল অ্যাবিলিটি।

Related News