জানেন কি, আপনার শরীরে কত ধরনের ‘ফ্যাট’ থাকে? না জানলে জেনেনিন

Written by TT Desk

Published on:

শরীরে ভালো ও খারাপ দুই ধরনেরই ফ্যাট বা চর্বি থাকে। তবে খারাপ ফ্যাট বেড়ে গেলেই দেখা দেয় স্থূলতা ও নানা ধরনের রোগব্যাধি। অতিরিক্ত মেদ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তবে শরীরে ঠিক কত ধরনের মেদ থাকে কিংবা কোন মেদ ক্ষতিকর, সে বিষয়ে অনেকেরই ধারণা নেই। আসলে মেদ হলো স্নেহজাতীয় পদার্থ। প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহ পদার্থই হলো শরীর গঠনের মূল উপাদান। অর্থাৎ ফ্যাট শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। তবে ভালো ও খারাপ ফ্যাটের মধ্যে পার্থক্য আছে।

শরীরের ভালো ফ্যাট যেমন উপকারী, ঠিক তেমনই অতিরিক্ত খারাপ ফ্যাট ডেকে আনতে পারে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি। তাই শরীরে যাতে প্রয়োজনের বেশি মেদ না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। শরীরে কত ধরনের ফ্যাট থাকে জানেন কি? চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-

ব্রাউন ফ্যাট

আরও এক ফ্যাট হলো ব্রাউন বা বাদামি। এটি ভালো চর্বি, যা ঘাড়ের পেছনে ও বুকে পাওয়া যায়। এটি ব্রাউন অ্যাডিপোজ টিস্যু বা বিএটি নামেও পরিচিত।

এই চর্বি শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনধারা উন্নত করার মাধ্যমে এই ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

বেইজ ফ্যাট

বেইজ ফ্যাট হলো সাদা ও বাদামি চর্বির সংমিশ্রণ। ব্যায়াম করার ফলে শরীর সাদা চর্বিকে ইরিসিন হরমোন ব্যবহার করে বেইজ ফ্যাটে রূপান্তরিত করে। এই প্রক্রিয়াকে ব্রাউনিং বলা হয়।

এ ধরনের ফ্যাট সাধারণত গলার হাড়ের চারপাশে ও মেরুদণ্ড বরাবর পাওয়া যায়। আঙুরের মতো সাইট্রাস খাবার খাওয়া বাদামি হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে বেঁধে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ভিসেরাল ফ্যাট

ভিসেরাল ফ্যাটের নাম কমবেশি সবাই শুনেছেন নিশ্চয়ই! এই ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ভুঁড়িতে যে চর্বি জমে তার মূল কারণ হলো এই ফ্যাট।

যদিও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের স্নেহ পদার্থের কিছুটা প্রয়োজন আছে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে জমলে এ ধরনের মেদ কোলেস্টেরল, ক্যানসার, হৃদরোগ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট

সাদা সাবকিউটেনিয়াস নামক ফ্যাট শরীরের চর্বিযুক্ত সাদা ফ্যাটের ভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এমনকি ত্বকের নিচের সাদা চর্বি অ্যাডিপোনেক্টিন উৎপাদনের কারণে শরীরে যে ইনসুলিন নিঃসৃত হয় সেটিও নিয়ন্ত্রণ করে।

সাদা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট শরীরের জন্য ভালো। তবে শরীর এটি বেড়ে গেলে অ্যাডিপোনেক্টিনের অত্যধিক ক্ষরণ হতে পারে। যা বিপাককে ধীর করে দেয়। একই সঙ্গে নিতম্ব, উরু ও পেটের চারপাশেও চর্বির পরিমাণ বাড়াতে পারে।

ত্বকের নিচে থাকে সাবাকউটেনিয়াস ফ্যাট। এই চর্বি নিতম্ব, বাহু ও পায়ের পেছনে জমে। পেটে এই মেদ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও পেটের নানা সমস্যায় ভুগতে পারেন।

ত্বকের নিচে চর্বি বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো শরীরে ইস্ট্রোজেনের আধিক্য। এই হরমোন শরীরে অতিরিক্ত বেড়ে গেলে পুরুষ ও নারী শরীরে অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।

Related News