হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত ঝরলে কী করবেন? বুঝতে পারছেন না? দেখুন

Written by TT Desk

Published on:

নোস ব্লিডিং বা এপিসটাক্সিস একটি খুব সাধারণ সমস্যা। যাঁরা এই সমস্যায় হামেশাই ভোগেন তাঁরা জানেন এটি ঠিক কতটা বিরক্তিকর। নাক থেকে রক্ত পড়ার দৃশ্য অত্যন্ত ভয়াবহ। সৌভাগ্যক্রমে, এর কিছু কার্যকর ঘরোয়া দাওয়াই আছে। এর গুরুত্ব নির্ভর করে এর অবস্থা ও ফ্রিকোয়েন্সির ওপর। নোস ব্লিডিং দুই প্রকার- ইন্টেরিয়র ও পোস্টারিয়র ব্লিডিং।

সামনের অংশে কোনও রক্ত জালক ছিঁড়ে গেলে সেখানে ইন্টেরিয়র ব্লিডিং হয়। অন্য দিকে, গলার কাছের অংশের রক্ত জালক ছিঁড়ে গেলে পোস্টারিয়র ব্লিডিং হয়। কোনও ক্ষেত্রে এই ব্লিডিং অন্তত 20মিনিট পর্যন্ত চলতে পারে। ঘরোয়া উপায় ইন্টেরিয়র ব্লিডিং বন্ধ করা গেলেও পোস্টারিয়র ব্লিডিং বন্ধ করবার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। সুতরাং, আপনার যদি মাঝে মধ্যেই নোস ব্লিডিং এর অভিজ্ঞতা থাকে, তবে এই ঘরোয়া টোটকাগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

নোস ব্লিডিং কি কারণে হয়

আমাদের নাকের ভিতরের অংশ ক্ষুদ্র রক্ত জালকে পূর্ণ হওয়ার কারণে এটি আমাদের দেহের অন্যতম স্পর্শকাতর অংশ। এই রক্তজালকে কোনও রকম আঁচ লাগলেই নোস ব্লিডিং শুরু হয়ে যায়। নীচে কয়েকটি নোস ব্লিডিং এর কারণ উল্লেখ করা হল।

●গরম, তপ্ত ইনডোর এয়ার
●শুষ্ক, গরম আবহাওয়া
●শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশন
●জোরে নাক টানা বা নাক ঝাড়া
●নাকে বা মুখে আঘাত পাওয়া
●এলার্জি রিএকশন
●প্রচুর পরিমাণে নাকের স্প্রে ব্যবহার
●বাহ্যিক কোনও বস্তু নাকে প্রবেশ করানো
●রক্তাল্পতা
●রাসায়নিক উত্তেজকের প্রভাব

কীভাবে ঘরোয়া উপায় নোস ব্লিডিং বন্ধ করবেন

সহজ পদ্ধতিতে নোস ব্লিডিং কিভাবে বন্ধ করবেন জেনে নিন।

কোল্ড কম্প্রেস
নোস ব্লিডিং বন্ধ করার একটি কার্যকর পদ্ধতি। নাকের ওপর কোল্ড কম্প্রেস কিছুক্ষণ চেপে রাখলে নোস ব্লিডিং বন্ধ হয়।
নাক চেপে রাখা
বুড়ো আঙুল আর অনামিকার সাহায্যে নাকের নরম অংশ 5-10 মিনিট চেপে ধরলে সেপ্টামের উপর রক্তের চাপ পড়ে। ফলে খুব তাড়াতাড়ি ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যায়। তবে সেই সময় অবশ্যই মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া চালু রাখবেন। ধীরে ধীরে চাপ দেওয়া ছাড়বেন আর অন্তত 5 মিনিট শান্ত হয়ে বসবেন। ব্লিডিং বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি রিপিট করবেন।
নোস ব্লিডিং বন্ধের জন্য কিছু ঘরোয়া টোটকা
এখানে কিছু রান্নার উপকরণের কথা বলা হল যেগুলো খুব দ্রুত নোস ব্লিডিং বন্ধ করে

ভিটামিন K
ভিটামিন K সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন কলা, পালং শাক, সর্ষে শাক, ব্রোকলি, বাঁধাকপি শরীরে কলিজেন উৎপন্ন করে যা নাকের ভিতরের অংশকে আদ্র রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের সুস্থতার জন্য ভিটামিন K সমৃদ্ধ খাবার খান। সবুজ শাক সবজি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
ভিটামিন C
প্রতিদিন ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাদগ্রহণের ফলে রক্ত জালকগুলো মজবুত হয় ফলে সহজে ছিঁড়ে যেতে পারে না। ফলে নোস ব্লিডিং বন্ধ হয়।
নোট: ভিটামিন C এবং ভিটামিন K দীর্ঘকালীন মুক্তির মাধ্যম। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক রিলিফ পাওয়া সম্ভব নয়।

আপেল সিডার ভিনিগার
রক্ত জালকগুলো মজবুত করতে সক্ষম হওয়ায় এটি একটি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ঘরোয়া দাওয়াই। এর জন্য আপনাকে সামান্য তুলো এই ভিনিগারে ভিজিয়ে নাকের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় কমপক্ষে 10 মিনিটের জন্য রাখতে হবে। এটি তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করে।
স্যালাইন জল
শীতকালে নাকের ভিতরের শুষ্ক ভাব নোস ব্লিডিং এর অন্যতম প্রধান কারণ। স্যালাইন জল এই সমস্যা দূর করতে পারে। নাকের ভিতরের অংশের আদ্রতা ফিরিয়ে আনতে, একটা বাটিতে কিছুটা স্যালাইন জল ভালো করে মিশিয়ে নাকের মধ্যে কয়েক ফোঁটা রাখুন।
গোলমরিচ গুঁড়ো
এটি উদ্দীপকে কাজ করায় রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, ফলে আহত স্থানের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে পারে। নোস ব্লিডিং শুরু হলেই এক চা চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো জলে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারলে অতি দ্রুত ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যায়।
বিছুটি পাতা
বিছুটি পাতা একটি প্রাকৃতিক হাইমোস্তাটিক উপাদান। বিছুটির রস এলার্জি-জনিত নোস ব্লিডিং ও বন্ধ করতে সক্ষম। বিছুটি জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে, তার মধ্যে তুলো ভিজিয়ে নাকে 5-10 মিনিট লাগালে নোস ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যায়।
পর্যাপ্ত পরিমাণ জল
জলের ঘাটতির জন্য নাকের ভিতরের মিউকাস
পর্দা শুকিয়ে যায়, যার ফলে নোস ব্লিডিং শুরু হয়। তাই সারাদিন প্রচুর জল পান করা প্রয়োজন।
ডঃ পি এস ফাডকের ‘হোম ডক্টর, ন্যাচারাল হিলিং উইথ হারবস, কোনডিমেন্টস এন্ড স্পাইসেস’ বই অনুসারে, নোস ব্লিডিং বন্ধ করতে ধনেপাতা, আমের মুকুল এবং পাকা আমের আঁটির ভিতরের নরম শাঁসের রস অবশ্যই খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত নোস ব্লিডিং এর জন্য ডক্টরের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর উপরের পদ্ধতি গুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নোস ব্লিডিং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

Related News